ব্রেকিং নিউজঃ

আশ্রয়নের ঘর পেলেন ধনীরা, ভূমিহীনরা বাদ

আপডেটঃ ১২:০২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৩, ২০২২

 

 


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :  নেত্রকোনার বারহাট্টায় ঘুষের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়নের ঘর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেম্বারের বিরুদ্ধে। এছাড়া টাকা না দিতে পারায় ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে জনপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমিজমা আছে এমন ব্যক্তিদের ঘর দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজে জমিজমা ওয়ালা ব্যক্তিদের ভূমিহীন সনদ দিয়ে মেম্বারের অন্যায় কাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চঞ্চল ও একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
সাহতা ইউনিয়নের বড়গাঁওয়া গ্রামের মো. মন্নাফ মিয়া, আমেনা আক্তার ও গোপালপুর গ্রামের আক্কাছ মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে ২ নভেম্বর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বারহাট্টার ইউএনওকে নির্দেশ দেন।
বড়গাঁওয়া গ্রামের মো. মন্নাফ মিয়া, আমেনা আক্তার ও গোপালপুর গ্রামের আক্কাছ মিয়া অভিযোগে বলেন, আমরা তিনজনই ভূমিহীন। অন্যর বাড়িতে থাকি। আশ্রয়নের ঘরের জন্য আবেদন করার পর স্থানীয় মেম্বার গিয়াস উদ্দিন আমাদের কাছে ঘরপ্রতি ৩০ হাজার করে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় মেম্বার বলেন-লটারিতে তোমাদের ঘর আসে নাই। তাই তোমরা ঘর পাবে না। অথচ বাড়ি ও কৃষি জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের এলাকার প্রশন্ন চন্দ্র বর্মণ ও রতন চন্দ্র বর্মনকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অভিযোগকারী মো. মন্নাফ মিয়া বলেন, প্রথমে এ বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলাম। তিনি সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিউটি রানী সাহাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।
সাহতা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিউটি রানী সাহা তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি ঘর পাওয়া প্রশন্ন চন্দ্র বর্মনের ৫ শতাংশ বসত বাড়ি আছে উল্লেখ করেন। আর রতন চন্দ্র বর্মনের ১০ শতাংশ বসত বাড়ি আছে। এছাড়া তিনি ১৫ শতাংশ চাষাবাদের জমি কিনেছেন তবে দলিল করেননি বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এমন প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, মেম্বারের তো সরকারি ঘর দেওয়ার ক্ষমতা নাই। এসব অভিযোগ মিথ্যা। আর যারা ঘর পেয়েছেন তারা তারা নিতান্তই গরীব মানুষ। দিন আনে দিন খায়। তারা টাকা দিবে কেমনে। অভিযোগের বিষয়টি ইউএনও স্যার নিজে তদন্ত করেছেন। কিন্তু কোন সত্যতা পাননি।
এ বিষয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চঞ্চল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তারা ব্যবস্থা নিবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরআগেও তারা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি।