ব্রেকিং নিউজঃ

রৌমারীতে পুলিশের সোর্সসহ ৪জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা ৭দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আপডেটঃ ১২:২৩ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০২২

মোস্তাফিজুর রহমান তারা ,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পুলিশের এক সোর্সসহ ৪জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। প্রকাশ্যে চাঁদা নেওয়ার দৃশ্য দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। গত ২৬ নভেম্বর (শনিবার) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কর্তিমারী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ২৭নভেম্বর এ ঘটনায় মামলা রুজু হলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলেন। এমন ঘটনায় ব্যবসায়িদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নের সম্মুখিন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে উপজেলার কর্তিমারী বাজারের রিপন মিয়া নামের এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ির দোকানে যান এলাকার পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মাসুম মিয়া, মাসুমের চাচা মঞ্জু মিয়া, কর্তিমারী বাজার এলাকার দুলু মিয়া ও জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লাইনম্যান আমির হামজা পলাশ নামের ৪ যুবক। ওই সময় ভাঙাড়ির মালামাল বোঝাই একটি ট্রাক দোকানের সামনে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় মাসুম মিয়া নিজেকে ওসির প্রতিনিধি ও পলাশ নিজেকে পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম পরিচয় দেন এবং ট্রাকে বিদ্যুতের মালামাল আছে বলে, ট্রাক থেকে সমস্ত মালামাল আনলোড করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় ওই ব্যবসায়ির কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা। অন্যথায় ওই ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে মামলাসহ নানা ভয়ভীতি দেখান তাঁরা। পরে নগদ ৫০হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন ওই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ি। বাকি ১লাখ টাকা মালামাল বিক্রির পর দিতে চাইলে অভিযুক্তরা চলে যান। এ দৃশ্য ধারণ হয় দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
ঘটনার দিন ২৬নভেম্বর (শনিবার) ভাঙাড়ি ব্যবসায়ি রিপন মিয়া বাদী হয়ে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করেন। পরে ২৭নভেম্বর (রোববার) মামলা রুজু হলেও (নিজেদের সোর্স বলে কথা), আসামিদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো তৎপরতা নেই পুলিশের। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স মাসুমের নাম থাকায় মামলা নিয়েই দায় সাড়ার চেষ্টা করছেন পুলিশ। মাসুম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কর্তিমারী বাজারের যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয় সুপার মার্কেটে মুদি দোকানের পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছিলেন। মাসুম উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত সোহরাব আলীর ছেলে।
মামলার বাদী রিপন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় মাসুম নিজেকে ওসির প্রতিনিধি ও পলাশ নিজেকে পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম পরিচয় দেন এবং আমার কাছে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মাসুম আমাকে বলেন, ওসি স্যার আমাকে ৮বার কল করেছেন। ওসি স্যার ফোর্সসহ কর্তিমারী বাজারে লাঞ্চ করছেন। মাসুম আমাকে আরও বলেন, এ টাকার মধ্যে ওসি নিবেন এক লাখ এবং ডিজিএম (পলাশ) নিবেন ৫০হাজার টাকা। ওই সময় নগদ ৫০হাজার টাকা দেই। বাকি এক লাখ টাকা মালামাল বিক্রি করে ফিরে এসে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁরা চলে যান।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় কর্তিমারী বাজারে ওসি নয় বরং ফোর্স নিয়ে মাসুমের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন রৌমারী থানার এসআই তছির উদ্দিন ও এএসআই রহমত আলী। চাঁদা আদায়ের পর সোর্স মাসুম মিয়া, পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাসহ সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা কর্তিমারী বাজারের একটি হোটেলে ভুড়িভোজও করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তছির উদ্দিন বলেন, আমি ঐদিন ঘটনা স্থলে যাই নি। আমরা যাওয়ার আগেই ঘটনার কাজ শেষ হয়েছে।
এএসআই রহমত আলীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।
ঘটনায় মামালার বিষয়ে রৌমারী থানার ওসি রুপ কুমার সরকার বলেন, মামলা রুজু করা হয়েছে, গ্রেফতারের চেষ্টায় আছি, যে প্রান্তেই আসামি থাকুক গ্রেফতার করবোই।