ব্রেকিং নিউজঃ

পূবাইলে নষ্ট দাঁত না উঠিয়ে ভাল দাঁত উত্তোলনের অভিযোগ কথিত ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে

আপডেটঃ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১২, ২০২২

মোঃ লিটন মিয়া,পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার মাজুখানে দাঁতের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে সেবা ডেন্টাল কেয়ার একটি ডেন্টাল কেয়ার ক্লিনিকে যান এক নারী। ব্যথাযুক্ত নষ্ট দাঁত না উঠিয়ে ভাল দাঁত উত্তোলন করে রোগীর হাতে ধরিয়ে দেন ডাক্তার। এমন অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসাইন (২৫) নামে এক কথিত ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘটনার দুইদিন পর সেই ভাল দাঁত নিয়ে থানায় হাজির হলেন সেই নারী ভুক্তভোগী রুবিনা (২৭)। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা ৪৩নং ওয়ার্ডের বিসিক ফকির মার্কেট এলাকার ফয়সাল ইসলামের স্ত্রী।
এ বিষয়ে বুধবার ভুক্তভোগী রুবিনা আক্তার (২৭) বাদী হয়ে ওই কথিত ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে পূবাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী জানান আমার বোন ডা. রাকিবুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা করতো। আমার বোনের পরামর্শে ডা. রাকিবুলের কাছে এসেছিলাম। রাকিবুল না থাকায় অভিযুক্ত ইমরান হোসাইন আমাকে বলেন আমিই যথেষ্ট। এক সময় ইন্ডিয়ায় দাঁতের চিকিৎসা করেছি। উনার কথায় রাজি হয়ে আমার ভাল দাঁত হারিয়ে ব্যথা সহ্য করতে পারছি না। ভাল দাঁত তুলে হাতে ধরিয়ে দেয়। ডাক্তারের ফিস নেন ১ হাজার ৫শ টাকা। সেই দাঁত নিয়ে প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি এখন। আমি ভুয়া ডাক্তারের বিচার চাই।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কথিত দাঁতের ডাক্তারের নেই কোনো সনদ। মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। টেনে টুনে দুবারে এইচএসসি পাশ করেছেন। কিন্তু কোনোটার সনদ দেখাতে পারেননি। কোন ডেন্টাল কলেজে পড়েছেন সেটাও বলতে পারেননি। উনার ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে রীতিমতো ডেন্টিস্ট ইমরান হোসাইন নাম ব্যবহার করছেন। রোগী প্রতি ভিজিট নেন ৫শ টাকা। সেই মতে প্রেসক্রিপশনে উনার নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে রীতিমতো ওষুধ লিখে দিয়ে নিজে স্বাক্ষরও করছেন।
অভিযুক্ত কথিত ডাক্তার ইমরান হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি নিজেই মালিক।ট্রেড লাইসেন্স অন্য একটি মহিলা দাঁতের ডাক্তারের নামে। ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ডে যেই ইমরান হোসাইন লেখা সেটা আমি না আমার ডেন্টাল কলেজ ক্যাম্পাসের বড় ভাইয়ের নাম উনিই ডাক্তার ইমরান। আমার নামের সঙ্গে মিল আছে তাই চালিয়ে যাচ্ছি।
পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পূবাইল থানার এসআই সহিদ জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়েছি তাই ভুক্তভোগী ও কথিত দাঁতের ডাক্তারকে দেখা করতে বলেছি বিষয়টি সমাধান করে দেব।