ব্রেকিং নিউজঃ

রৌমারীতে ভিটাউচুঁ করণ চালুর দাবীতে এলাকাবাসীর ভিক্ষোভ মিছিল

আপডেটঃ ৭:১৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৯, ২০২২

 

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ফ্লাড (ইসিসিসিপি-ফ্লাড, বাস্তবায়নে মানবিক উন্নয়নকেন্দ্র পদক্ষেপ নামক এনজিও এর মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়িভিটা উঁচু করণ, টয়লেট নির্মাণ, ছাগল ভেড়া পালনে মাচার ঘর সহায়তা, বন্যামুক্ত নলকুপ স্থাপন, কৃষি প্রযুক্তি প্রদান ও দক্ষতা উন্নয়ন মূলক প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থার নীতিমালাকে উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে ও অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে ভিটামাটি উচুঁ করণের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এদিকে ড্রেজার দিযে ভিটামাটি উচুঁকরণের কাজ চালুর দাবীতে ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় চরশৌলমারী থেকে আসা কিছু লোক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্তরে এসে এক সমাবেশে মিলতি হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, বাসদের শেখ মোঃ আব্দুল খালেক সদস্য সচিব, বাসদ রৌমারী। শিমুল আহমেদ শাকিল সভাপতি বন্দবেড় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, লিচু মিয়া, জাহাঙ্গির, আবু সাঈদ, সোহেল রানা, জিয়াউর রহমানসহ অনেকে।
উল্লেখ্য যে, উপরোল্লিখিত পদক্ষেপ সংস্থার মাধ্যমে বাড়িভিটে উচু করণসহ নানা বিষয়ে রৌমারী পদক্ষেপ অফিসের কর্মকর্তা হারুনও কামরুজ্জামনের বিরুদ্ধে ঘুষ দূনীতিসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে অসংখ্য অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে অনেকের ধারনা উক্ত সংবাদকে ধামাচাপা দিতে সুকৌশলে এমন বিক্ষোভ সমাবেশ। বিষয়গুলি নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির উপকারভোগীরা অভিযোগ তুললে তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল করাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান পদক্ষেপ এনজিও ম্যানেজার হারুন অর রশিদ। রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দবেড় ইউনিয়নের ফলুয়ারচর ও পালেরচর গ্রামে দেড় বছর আগে প্রায় ৬ শত খানা প্রধানের নামের তালিকা প্রনয়ণ করা হয়। এসব পরিবারের জন্য খানাপ্রতি ৫ হাজার মাটির মাধ্যমে বাড়িভিটা উঁচু করার কথা থাকলেও একাধিক খানার নাম দিয়ে একটি করে বাড়িভিটা উঁচু করা হয়। প্রতিটি নামের জন্য মাটি কাটা বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা। অভিযোগ এসেছে, এলাকায় বসবাসহীন মেয়ে নাতীনাতনি যারা এলাকায় বসবাস করেন না, এমন ব্যাক্তির নামেও খানা প্রধানের নামের সঙ্গে যোগ করে ৫ থেকে ৬ জনের নাম দিয়ে একটি করে বাড়ি উঁচু করে দিয়েছেন পদক্ষেপ সংস্থা। তাদের নামের তালিকা চুড়ান্ত করার সময় হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।
অন্যদিকে একটি পরিবারের জন্য ২১ হাজার টাকা ব্যায়ে একটি টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ার কথা। সংস্থার নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশি মতো উপকার ভোগীদের নিকট থেকে ৬ হাজার টাকা করে নিয়ে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে এ টয়লেট নির্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পদক্ষেপ সংস্থার অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে ঐ এলাকার প্রভাবশালী দেলোয়ার মাস্টারের ছেলে নুর আলম নামের এক দালালের মাধ্যমে খানাপ্রতি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে পদক্ষেপ এনজিও মাঠকর্মী রাকিব হাসান ও কামরুজ্জামান। উপকারভোগী আব্দুর রশিদ ও জমিলা বেওয়া জানান, ৬টি খানার নাম দিয়ে মাটি কাটার জন্য ১০ হাজার ও টয়লেট নির্মানে ৬ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকা দিতে না চাইলে মাটি কাটা ও টয়লেট নির্মানের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেখান ওই মাঠকর্মী।
বন্দবেড় ইউপি সদস্য বিপ্লব হাসান বলেন, নি¤œমানের ইট দিয়ে টয়লেট নির্মান করে দিয়েছেন এবং প্রতিটি টয়লেটের জন্য ৫ হাজার ৯শত টাকা করে নিয়েছেন। বাড়িভিটা উচু করণের জন্য প্রতিটি উপকারভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ শুনেছি।
মাঠকমী কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভিটামাটি উচু করণে কোন প্রকার অর্থ নেয়া হয়নি। তবে টয়লেট নির্মানে সংস্থার নিয়ম, খানা প্রতি ৫ হাজার ৯শত টাকা নেয়ার।
পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র রৌমারী শাখার ম্যানেজার হারুনর রশিদের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সদস্য কন্ডিভিউশন বাবদ টয়লেট নির্মানের জন্য ৫ হাজার ৯ শত টাকা নেয়া হয়েছে এবং বাড়িভিটা উঁচু করণে কোন অর্থ নেয়া হয়নি। কেহ বলে থাকলে তা সত্য নয়।
এ অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। অনিয়ম দুর্নীতি ঢাকতে একটি সংবাদ প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন প্রকল্পে পাল্টে যাচ্ছে চরাঞ্চলের জীবনমান। #