ব্রেকিং নিউজঃ

নেত্রকোনায় সাড়ে ৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন

আপডেটঃ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২৭, ২০২২

 

মোনায়েম খান ,নেত্রকোনা :  সাড়ে ৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর ৯ বছরের শিশু পরশমনি হত্যাকান্ডের ক্লুলেস মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে নেত্রকোনার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেন্টিগেশন (পিবিআই)।
এ উপলক্ষ্যে নেত্রকোনা পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহীনুর কবির সোমবার সকাল ১১টায় পূর্ব কাটলীস্থ তার নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী গ্রামের হাবিবুর রহমানের বড় মেয়ে ৯ বছরের শিশু পরশমনি বিগত ২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল বিকালে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ভোরে একই গ্রামের বুলবুল চৌধুরীর বাড়ীর সামনের বিলের পাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়। পরবর্তীতে মৃতের মা শাহীনুর আক্তার বাদী হয়ে বিগত ২০১৮ সালের ১১ আগষ্ট অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে একটি হত্যা কামলা দায়ের করেন। প্রথমে মদন থানা ১ বছরের বেশী সময় তদন্ত করে পরবর্তীতে নেত্রকোনা সি আই ডি ১ বছরের অধিক সময় তদন্ত করেও হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে ২০২০ সালে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর আদালত নেত্রকোনা পিবিআইকে তদন্তভার প্রদান করে।
পিবিআই-এর অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদারের সার্বিক তত্বাবধানে ও দিক নির্দেশনায় নেত্রকোনা পিবিআইয়ের ইউনিট ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবিরের সার্বিক সহযোগিতায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ নূরুল ইসলাম খান মামলাটি তদন্ত কালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই গ্রামের মৃত হামিদুর রহমানের পুত্র জোবায়ের (২৩) কে ২৪ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলা শহর থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ২৫ ডিসেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করা পর বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদান করে। জোবায়ের আদালতকে জানায়, ঘটনার দিন বিকালে পরশমনিকে খেলার ছলে জনৈক জুয়েলের বাড়ীর ঝোপের আড়ালে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কাজ করতে চাইলে সে চিৎকার শুরু করে এবং বাড়ীর লোকজনকে জানানোর কথা বলে। তখন জোরে থাপ্পড় মারলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার শঙ্কায় গলায় চেপে ধরে শ^াসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করা হয়। গভীর রাতে তার লাশ ঝোপের আড়াল থেকে বিলের পড়ে ফেলে দেয়া হয়। বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।