সারাদেশে সন্দেহভাজন হাইড্রোসিল রোগী প্রায় ২৫ হাজার

আপডেটঃ ৯:০৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২

দেশের উত্তরাঞ্চলের ১০টি জেলায় প্রায় ২৫ হাজার সন্দেহভাজন হাইড্রোসিলের রোগী রয়েছেন, যারা সামাজিক ভ্রান্ত ধারণার কারণে স্বাস্থ্যসেবা নি‌তে বা চিকিৎসকের কা‌ছে যে‌তে লজ্জাবোধ করেন। এমনকি এই জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবার বাইরে থাকার কার‌ণে তারা জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সমানভাবে অংশ নিতে পারেন না।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইসিডিডিআর’বি আয়োজিত ‘এনশিওরিং হেলথ ইকুইটি অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টিসিপেশন ফর ক্রনিক লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস পেসেন্টস থ্রু সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ফাইলেরিয়া নির্মূল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ এবং কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফাইলেরিয়াসিস একটি পরজীবীঘটিত রোগ, যা কিউলেক্স মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যাওয়া এবং ঘন ঘন জ্বর হওয়া এ রোগের প্রধান উপসর্গ। এ রো‌গে আক্রান্ত পুরুষ রোগীর অণ্ডথলি ফুলে যেতে পারে, যা হাইড্রোসিল নামে পরিচিত। এসব রোগীরা অত্যন্ত অবহেলিত এবং প্রায়শই সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্নের শিকার হন।

আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় হাইড্রোসিলে আক্রান্ত ২০৩ জন রোগীকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সহায়তা দিয়েছে আইসিডিডিআর’বি। এর মধ্যে ১৪৫ জন রোগীকে রংপুর এবং ৫৮ জনকে কুড়িগ্রাম জেলায় অপারেশন করা হয়।

আইসিডিডিআর’বির গবেষকরা একটি ফলাফল মূল্যায়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন। যাতে দেখা গে‌ছে, অপারেশনে এসব রোগীদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। অস্ত্রোপচারের এ কার্যক্রম অত্যন্ত সাশ্রয়ী, যার অর্থ অস্ত্রোপচারের অর্থনৈতিক সুবিধা সার্জারির খরচ অপেক্ষা ১৫ গুণ বেশি। অধিকন্তু, এ রোগীরা এখন আগের চেয়ে বেশি ঘণ্টা কাজ করতেও সক্ষম।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাস্টেনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক লিয়াকত আলী, উপ-পরিচালক রাগীব ইবনুল আসিফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. সাবেরা সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিডিডিআর’বির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. সামস এল আরেফিন।

প্রকল্পটি আইসিডিডিআর’বির ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডিরেক্টর ড. দীনেশ মণ্ডলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস ডিভিশনের রিসার্চ ইনভেস্টিগেটর ডা. শমিক মারুফের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মিডিয়া ও আইসিডিডিআর’বির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।