ব্রেকিং নিউজঃ

নেত্রকোণায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতি ও সদস্য একই পরিবারের নানা অভিযোগ

 

মোনায়েম খান, নেত্রকোনা :  জেলার আটপাড়া উপজেলার গরমা শামছুদ্দিন চেীধুরী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপির ডিওলেটার দিয়ে একই পরিবারে প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য করে পরিবার তন্ত্র বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা হয়েছে। সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, সদস্য তিন ভাই মিলে ২০,বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকসহ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির কাছে জিম্মি হয়ে গেছে বলে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ রয়েছে। কথায় কথায় ছাত্র-শিক্ষকদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়া কমিটির নিত্য নতুন হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেকিম চৌধুরী, ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি আব্দুল হেলিম চৌধুরী ও সদস্য আব্দুল কাদির চৌধরী উভয়ের পিতা শামছুদ্দিন চৌধুরী, কমিটির ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রাঃ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবার তন্ত্রের ক্ষমতা দেখিয়ে স্কুলের সভাপতি ঢাকা থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করেন। স্কুলের প্রয়োজনে খাতা পত্র নিয়ে ঢাকা থেকে সভাপতির সাক্ষর করিয়ে আনতে হয়। স্কুলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে শিক্ষক –কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্কুলের সরকারি তহবিলের হিসাব নিকাশ নিয়ে কেউ কোন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাৎ করা তাদের জন্য সহজলভ্য হয়ে দাড়িয়েছে। ২০০২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠার পর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি ভাবে ্একটি পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে যায়। এই নিয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও সুবিচার না পাওয়াতে ছাত্র অভিভাবক ও শিক্ষকগণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলা কৌশলে স্থানীয় এমপির ডিওলেটার দিয়ে মনগড়া কমিটি করে ২০ বছর ধরে তিন ভাই মিলে দায়িত্ব পালন করছে। বারবার একই পরিবারের ব্যক্তিদেরকে সভাপতি ও সদস্য করে স্কুলের নিয়োগ ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে। বর্তমান ম্যানিজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়াতে আবারও সভাপতি হওয়ার জন্য নানা তালবাহানা শুরু করেছে। গত ১২ নভেম্বর রবিবার অত্র বিদ্যালয়কে পরিবার তন্ত্র থেকে মুক্ত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এলাকার মোঃ সেলিম তালুকদার, অরফে উচ্ছেদ মিয়া। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা লগ্ন থেকে শুরু করে অধ্যবদী পর্যন্ত স্কুলের হিসেবে দেখা দিয়েছে নয় ছয়। এরমধ্যে যারা বিদ্যালয়ে হিসেব নিতে এসেছে তারা হেনেস্থার শিকার হয়েছে। স্কুলের সঠিক হিসাবের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী। গত ২০১৯ সালে সরকারি বরাদ্ধ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ২টি ভি,আই পি চেয়ার ক্রয় করার জন্য টাকা দেওয়া হলেও, তা ক্রয় না করে একটি ভূয়া ভাওচারের মাধ্যমে টাকা আতœসাৎ করা হয়।চলতি বছরের ২০২৩ সালে সরকারি ভাবে বিদ্যালয়ে ৫লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১লক্ষ টাকা শিক্ষকদের টিউশন ফ্রি দিয়ে ৭৫ হাজার টাকা নিজ আতœীয় স্বজনের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দিয়ে উন্নয়নের নামে বাকি টাকা আতœসাৎ করা হয়েছে। স্কুলের ভাউন্ডারীর পাশে এক অসহায় কৃষকের ১৪ সতাংশ ভূমি জুরপূর্বক দখল করাতে জমির মালিক স্টোক করে মারা যায়। টাকার বিনিময়ে এক পর্যায় এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। এই ভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির আকড়ায় পরিনত করা হয়েছে। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সভাপতি ও সদস্য ভাইদের অসাদাচরনে উপস্থিতি শিক্ষকগণসহ অভিভাবক প্রতিনিহিত হেনেস্তার শিকার হচ্ছে বলে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বললে হামলা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেকিম বলেন, সভাপতি হলেন আমার ভাই তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সদস্য ভাই তিনিও হলেন জমিদাতা। আমি প্রধান শিক্ষক হয়েছি যোগ্যতায়। পাচঁ লক্ষ টাকা যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে বলে জানান। এই নিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গফুর বলেন অভিযোগ পেয়েছি তা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এসব অভিযোগের প্রসঙ্গে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিল আহমেদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*