ব্রেকিং নিউজঃ

রৌমারীতে বিজিবি-চোরাকারবারি সংঘর্ষ, আহত ৮

 

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভারতীয় গরু আটককে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে নারীসহ অন্তত ৮জন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধর্মপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর রাতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা ১০৫৭ পিলারের কাছ দিয়ে ভারত থেকে ২০-২৫টি গরু অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ধর্মপুর গ্রামে নিয়ে আসে কয়েকজন চোরাকারবারিরা।সেখান থেকে গরুগুলো ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে খোলামাঠে বেঁধে রাখা হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দাঁতভাঙ্গা কোম্পানি কমন্ডার সুবেদার আঞ্জু আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চোরাই গরুগুলো জব্দের চেষ্টা করে বিজিবি। এ সময় গরুর মালিক চোরাকারবারিরা হইচই করলে গ্রামের লোকজনকে জড়ো করে এবং বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায় চোরাকারবারি ও বিজিবিরমধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে আহত হয় সোনারতী খাতুন, হাফিজুর রহমান, মঞ্জ ুমিয়া, মিজানুর রহমান, রাবেয়া খাতুন, আঙ্গুর মিয়া ও বিজিবির এক সদস্য। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা গ্রহন করেন। তাদের মধ্যে সোনারতীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শাহাজাহান আলী জানান, ভারত থেকে গরু পাচার করে নিয়ে এসে ধর্মপুর গ্রামে মঞ্জুর গরুর খাটলে বেধে রাখে পাচারকারিরা। এদিকে দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আঞ্জু আহামেদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যের টহল দল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মঞ্জুর বাড়িতে উপস্থিত হন এবং সেখানে ১৫-২০ টি গরু খাটালে বাধাঁ দেখতে পান। এমত অবস্থায় বিজিবি গরু গুলি নিতে চাইলে মঞ্জু গংএর সাথে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় মঞ্জুর স্ত্রী সোনারতী খাতুন এগিয়ে আসলে তার মাথায় বিজিবি আঘাত করে বলে ভ‚ক্তভোগী সোনারতি খাতুন জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চোরাকারবারি ও গ্রামবাসী বিজিবির উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে রুপনেয়। এতে আহত হয় কয়েকজন।
দাঁতভাঙ্গা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আঞ্জু আহমেদের নিকট সংঘর্ষের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ফোনে ব্রিফিং করা যাবেনা। আসেন সামনাসামনি কথা বলবো।
জামালপুর বিজিবির ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মাশরুকীর মোবাইল ফোনে একাধিবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
রৌমারী থানার দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার এএসআই শফিক জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনো অভিযোগ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*