ব্রেকিং নিউজঃ

ব্রক্ষপুত্রকে সঠিক ব্যবহারে খুলে যেতে পারে সম্ভাবনার দ্বার

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রাম। জেলাটির ১৫টি নদ-নদী দ্বারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা রৌমারী রাজিবপুর। কুড়িগ্রাম জেলার তিনটি উপজেলা চিলমারী, রৌমারী , রাজিবপুর। শতশত বছর ধরে ব্রক্ষপুত্রসহ ১৫টি নদ-নদীর কড়াল গ্রাসে হাজার হাজার পরিবার বসত ভিটে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাজার হাজার একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ব্রক্ষপুত্রের এমন তান্ডবে ভিটেমাটি ও জমিজিরাত হারা ভ‚মিহীন মানুষ গুলো কেহ অন্যের জমিতে কেহ রাস্তার ধারে, এবং কোন কোন পরিবার দেশের বিভিন্ন শহরে রেল-লাইনের পাশে বা শহরের অলিতে গলিতে ঝুপরি ঘর বেধেঁ মানবেতর জীবন যাপন করছে। শতশত বছর ধরে চলমান সংকটের সমাধান হয়নি আজও। কে শোনে অভাগার আর্তনাথ।
ব্রক্ষপুত্রের পার রক্ষায় মাঝে মধ্যে বরাদ্দ দিলেও তাযেন কাজের নামে শুভ্কংরের ফাঁকি। বছরের পর বছর চিলমারী রৌমারী ও রাজিবপুর রাক্ষসি ব্রক্ষপুত্রের ভাঙ্গনে তিন উপজেলার বসতভিটে ফসলী জমি মাচিত্র থেকে বিলিনের পথে। ব্রক্ষপুত্রের পশ্চিম ও পূর্ব তীর রক্ষায় স্বাধীনতার ৫২ বছরে ৯০ এর দশক থেকে সরকার ব্রক্ষপুত্র নদের পার রক্ষায় মাঝে মধ্যে শতশত কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও তাযেন কাজরে নামে শুভ্কংরের ফাঁকি।
মূলত ব্রক্ষপুত্র নদটি চিনের তিব্বত থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যদিয়ে আসাম হয়ে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের ১০৪৭ পিলার থেকে ১০৫৪ পিলার ভেদ করে ব্র্ক্ষপুত্র নদটি চিলমারী, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার বুকচিড়ে যমুনা হয়ে বিভিন্ন নদ-নদীর সাথে মিলিত হয়ে ভাঙ্গা গড়ার তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত রৌমারী টু চিলমারী ব্রক্ষপুত্র নদের প্রস্ত / দূরত্ব প্রায় ২০ কিলো মিটার। যেখানে তিন উপজেলায় নদী গর্ভে জমির পরিমান প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর। মূলত নদী রক্ষায় সরকারের তৎপরতা না থাকায় নদী তার খেয়াল খুশিমত ভাঙ্গনের ফলে তিন উপজেলার ৭৫ ভাগ ভ‚মি নদী গর্ভে বিলীন হয়েগেছে। প্রশ্ন হয় ব্রক্ষপুত্র কি তাহলে তিনটি উপজেলা তার ক্ষুধার বাসনা মেটাতে তার পেটের অতল গহব্বরে বিলীন করে শান্ত হবে?
তবে আমার মতে ব্রক্ষপুত্র গর্ভে রয়েছে হিরার খনি, যার শেষ নেই। মোটা বালিকে হিরার খনি হিসেবে আক্ষায়িত করা হচ্ছে। জরিপে জানাগেছে সেখানে রয়েছে সিলিকনসহ নানা খনিজ সম্পদ। তাই ব্রক্ষপুত্র নদকে সঠিক ব্যাবহার করতে পারলে অভিশাপের পরিবর্তে ব্রক্ষপুত্র হবে আর্শিবাদ , খুলে যাবে উন্নয়নের সম্ভাবনার দ্বার। বর্তমান ব্র্্ক্ষপুত্র নদ থেকে প্রতিনিয়ত শতশত অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদের তলদেশ থেকে মোটা বালি উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে অবৈধ সিন্ডিকেট। সরকার নদী জরিপের মাধ্যমে ব্রক্ষপুত্র নদের প্রস্ত কমিয়ে ভ‚মি বৃদ্ধিসহ জনকল্যাণ মুখি প্রকল্প হাতে নিতে পারে। নদের প্রস্ত ১৫ কিলোমিটার কমিয়ে ৫ কিলোমিটার সিমানা নির্ধারণ করে খনন প্রকল্প হাতে নিলে নদী ভাঙ্গন রোধ ও জনদূভোগ লাঘব হবে।
তবে বিজ্ঞজনের ধারনা ৫ কিলোমিটার প্রস্তে ব্রক্ষপুত্রের উজানের মুখ ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ১০৪৭ হতে ভাটির দিকে যমুনার কিনার পর্যন্ত দুইপারে পাইলিংএর মাধ্যমে লোহার পাত বসিয়ে পার মজবুত করার পরামর্শ দেন। এমনকি ড্রেজিং এর মাধ্যমে নদের দুই পারে উত্তোলিত বালি উক্ত স্থান বাঁধ তৈরী করতে হবে। দুই পারে বিশাল অঞ্চল জুড়ে মাটি ভরাটের ফলে উক্ত স্থানে গড়ে উঠতে পারে জনসাধারণের বিনোদনে পর্যটন কেন্দ্র, বেকারত্ব দুরিকরণে শিল্প কারখানা, ভ‚মিহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য আবাস স্থল ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি জেগে উঠবে । এছাড়া নদী থেকে উত্তেলিত মোটা বালি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারে । নদী খননের ফলে আনর্Íজাতিক ভাবে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সাথে নৌপথে ব্যাপক অর্থনৈতিক বানিজ্যের মোড়গ উম্মোচন হতে পারে। এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাজার বছরের সমস্য সমাধানে রাজিবপুর চিলমারী ও রৌমারী’র জেলা তথা সারা দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন ও কৃষির বিপ্লব ঘটতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*