ব্রেকিং নিউজঃ

চলে গেলেন পাহাড়ে শিক্ষার আলো ছড়ানো সুরথ চন্দ্র দে

 


নেত্রকোনা প্রতিনিধি : বয়সের ভারে সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না, তাতে কি ? হেঁটে হেঁটে এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি গিয়ে শিশুদের পড়িয়েছেন। অর্ধ শতাব্দিরও বেশী সময় ধরে নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চল দুর্গাপুর সদরের শিক্ষক সুরত চন্দ্র দে এলাকায় ছড়িয়ে গেছেন শিক্ষার আলো। রোববার সকালে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখা সেই মানুষ সুরত চন্দ্র দে জীবনের ইতি টেনেছেন। এর আগে তিনি জীবনের ৮৫টি বছর অতিক্রম করেছেন।
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ সুরত স্যারকে শেষবারের মতো দেখতে তাঁর বাসায় ছুটে যান। বেলা আড়াইটায় দুর্গাপুর পৌরশ্মশাণে তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদরের সাধু পাড়া এলাকার শিক্ষক বিধু ভূষণ দে’র ঘর আলোকিত করে সুরথ চন্দ্র দে বাংলা ১৩৬০ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ জন্ম গ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সে চলে যান ভারতের আসমে। যাওয়ার আগে সপ্তম শ্রেণিতে পরতেন, আর পড়া হয়নি। ২০ বছর বয়সে আবার ফিরে আসেন দুর্গাপুরে। বাবার শিক্ষকতার অনুপ্রেরণায় নিজে এলাকায় শুরু করেন বাসায় বাসায় গিয়ে শিশুদের পড়ানো। বিনিময়ে কারও ইচ্ছা হলে কিছু টাকা দিলে তা নিতেন। আবার না দিলেও কোন টাকা চাইতেন না। বেশীরভাগ শিশুকেই পড়িয়েই কোন টাকা নেননি। এভাবেই তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় মাথায় নিয়ে কাকডাকা ভোর থেকে হেঁটে হেঁটে চলতেন এলাকার এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি শিশুদের এই অশিতীপরের শিক্ষকতার জীবন ছিল চলমান। বয়সের কারনে ন্যূজ্ব হয়ে গেছেন। কিন্তু থেমে যান নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বৃদ্ধ বয়স হওয়ার কারণে শিক্ষকতা বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও মানেননি তিনি। শিক্ষকতায় এলাকাবাসীর শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন এই মানুষটি।
সুরত চন্দ্র দের ছেলে সুশান্ত চন্দ্র দে বলেন, বাবার বয়স হয়েছিল অনেক। শিশুদের পড়ানো বাদ দিতে বলেছি। কিন্তু তিনি তাতে কান দেননি। বাবার অনেক ছাত্র রয়েছেন। যাদের সন্তানেরাও বাবার কাছে পড়েছেন। বাবা বলতেন, মৃত্যুর আগ নাগাদ তিনি শিশুদের পড়িয়ে যাবেন। পড়িয়েই তিনি আনন্দ পান।
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল বলেন, সুরথ স্যারের মহান কাজের জন্যে আমরাও গর্বিত।
এলাকায় তিনি সুরত স্যার হিসেবেই পরিচিত। সুরত স্যার এলাকার শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। ২০১৭ সালে ১১ অক্টোবর স্থানীয় শিক্ষা-সাংস্কৃতিক সংগঠন জলসিড়ি সংগঠন ১৪ বছর পূর্তিতে সুরথ চন্দ্র দের শিক্ষা বিস্তারে স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*