ব্রেকিং নিউজঃ

কলমাকান্দায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একজন নিহত,আহত -৫

 

 

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতাঃ নেত্রকোণার কলমাকান্দায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কামরুজ্জামান খন্দকার (৫০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আহত হন ৫ জন। আজ শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার ভোরে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় দুইজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বাউসাম বাজারে বেকারীর সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত কামরুজ্জামান খন্দকার উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের মেদিরকান্দা রুদ্রনগর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিক খন্দকারের ছেলে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে , কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের প্রতিপক্ষ আবুলের ছেলেসহ ভাতিজারা বেশ কয়েকদিন ধরে বাউসাম বাজারে গরুর ব্যবসা করে আসছিল। ঘটনার দিন নিহত কামরুজ্জামানের সাথে আবুল হোসেনের ছেলে ভাতিজারা কথা কাটাকাটিতে জড়ায়। তা এক পর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়। এতে করে উভয় পক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে কামরুজ্জামান খন্দকার, তার ছেলে রাব্বি খন্দকার (২৫), তার ভাতিজা জসিম খন্দকার (৩০), রতন খন্দকার ও আবুল হোসেন (৫৩) সহ ৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুজ্জামান খন্দকারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জসিম খন্দকারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসক । নিহত কামরুজ্জামান খন্দকারের ছেলে রাব্বি খন্দকার জানায়, আবুলের ছেলে শাহীন ও তার ভাই বাউসাম বাজারের হাশেম,ওয়াসিম সহ ১৫/২০ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাবা ওপর হামলা চালায় তারা। খবর পেয়ে আমিসহ আমরা কয়েকজন বাড়ী থেকে বাবাকে বাঁচানোর জন্য বাউসাম বাজারে ছুটে যাই। এসময় তারাও আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে করে আমরাও কয়েকজন আহত হই। আমার বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না আমরা। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করবো। নিহতের ঘটনা শুনে অভিযুক্ত আবুল হোসেনসহ অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফল হক বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসা হয়। শনিবার সকালে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় হাশেম ও ওয়াসিম নামে দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ২৬ শে মে বুধবার উপজেলার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের খোরশেদ মিয়ায় ছেলে বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির মিয়া (৪৫) কে খারনৈ ইউনিয়নের মেদিরকান্দা রুদ্রনগর গ্রামের কামরুজ্জামানের ভাইয়েরা টেটাবিদ্ধ করে হত্যা করেছিল। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে তারই জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এই নিহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*