ভাগ্যের সাথে লড়াই করে চলেছেন কেন্দুয়ার পারুল রানী

আপডেটঃ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৩, ২০২২


মহিউদ্দিন সরকার, কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিন কন্যা আর অসুস্থ্য স্বামী খগেন্দ্র চন্দ্রকে নিয়ে দারিদ্রের সংসার পারুল রানীর। ইতিমধ্যে মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে বড় মেয়ে মনিকা রানী ও গত অগ্রহায়ণ মাসে মেঝো মেয়ে কনিকা রানীকে বিয়ে দিয়েছেন এই মা। ছোট মেয়ে দিপ্তী রানী স্থানীয় একটি স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্বামী বৃদ্ধ খগেন্দ্র চন্দ্র (৬৫) এর ঔষধ, ছোট মেয়ের পড়ার খরচ আর সংসার খরচ চালাতে জীবন যুদ্ধে নামেন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের গৃহবধু পারুল রানী (৫৫)। তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাঁশ কিনে বেত তুলে সেই বেত দিয়ে তৈরি করেন গৃহস্থালী কাজের ডালা, চালুন, ঝুড়ি (আঞ্চলিক ভাষায় খলই)। সারাদিনে ৪/৫টি বেতের বাসন তৈরী করে বাজারে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি। এতে সামান্য যা আয় হয় তা দিয়েই ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে নিরলস পরিশ্রম করে ভাগ্যের সাথে লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রবিবার দুপুরে কেন্দুয়া বাজারের জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে একটি বন্ধ দোকান ঘরের সামনে বসে বিক্রি করছিলেন তার নিজ হাতে তৈরি বেতের জিনিসপত্র। একজন গ্রাহকের কাছে একটি চালুন বিক্রি করেন ১শ ৮০টাকায়।এ সময় পারুল রানীর সাথে কথা হলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, অভাবে পড়ে গৃহ ছেড়ে বাজারে এসেছি বাঁশ বেতের তৈরি ডালা-চালুন বিক্রি করতে। ঘরে অসুস্থ্য স্বামী, শ্বাস কষ্টের জন্য তিনি বাজারে আসতে পারেন না। বেতের তৈরি জিনিস বিক্রির জন্য তাকে বাজারে পাঠালে বাড়িতে থেকে দু:শ্চিন্তায় স্বস্তি পাই না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই বিক্রি করতে বাজারে আসি। প্রতিদিন বেজগাতী, বাহ্মনজাত, জফরপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বাঁশ কিনে বেত তুলে ডালা-চালুন, খারি-ঝুড়ি, খলই ইত্যাদি তৈরি করে বাজারে এনে বিক্রি করি। ৫শ টাকায় ২/৩টি নলজাই বাঁশ কিনে বেত তুলে ৭/৮শ টাকায় বিক্রি করি। এতে ২/৩শ টাকা যা লাভ হয় তা দিয়েই ঔষধপথ্য ও চাল-ডাল কিনে সংসার চালাই। সরকারি কোন রকম সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান। পারুল রানী আরও বলেন, বড় মেয়ে মনিকাকে ধার-দেনা করে কয়েকবছর আগে বিয়ে দিয়েছি। গত অগ্রহায়ণ মাসে কেন্দুয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও নারী নেত্রী কল্যাণী হাসানের সার্বিক সহযোগিতায় বাজার থেকে সাহায্য তুলে ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে মেঝো মেয়ে কনিকা রানীকে বিয়ে দিয়েছি। ইচ্ছা ছিল ছোট মেয়ে দিপ্তী রানীকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় কিছু করব। কিন্তু ছোট মেয়ে দিপ্তী কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর মত। হতাশ কন্ঠে তিনি বলেন, আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সংসারের চাকা বন্ধ হয়ে যাবে। এই দু:শ্চিনতায় আমাকে প্রতিদিন তাড়া করে বেড়ায়। বেঁচে থাকতে কিছু সঞ্চয় করে যেতে পারব কিনা জানিনা।