ব্রেকিং নিউজঃ

জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যাবে জন্মের পর: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আপডেটঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১০, ২০২২

সিএনএ ডেস্ক: জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষমতা যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে। একই সঙ্গে জন্মের পরপরই দেওয়া হবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) খসড়া আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে।

তবে মন্ত্রিসভায় আনা আইনটির খসড়া পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবারও মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২২ নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ আইন পাস হলে জন্মের পরপরই ইউনিক আইডি দেওয়া হবে। পরে এটিই তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হবে। তবে নতুন আইন পাসের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনই (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন যেটা এনআইডি অ্যাক্ট হিসেবে ছিল, ২০১০ অনুযায়ী এটা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ছিল। এটা এখন সরকার নিজের কাছে নিয়ে আসতে চাচ্ছে। কারণ ইসির যে অরিজিনাল কনসেপ্টটা ছিল সেটা ১৯৯৬ সালের, তখন ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এটা শুরু হয়েছিল। পরে এটা এনআইডিতে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু সে সময় এটার বেসিক কনসেপ্ট ছিল নির্বাচন রিলেটেড। পরবর্তীতে যখন এনআইডি করা হলো তখন এটার সঙ্গে অন্যান্য কর্মসূচি যোগ করা হলো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এটা সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা বেশি প্রয়োজন। কারণ তারা তো সব ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না। এ কারণে এটা সুরক্ষা সেবা বিভাগে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা পাসপোর্টটা হ্যান্ডেল করে।

তিনি আরও বলেন, একটু বলে রাখি, আলটিমেটলি একটা ইউনিক আইডিতে চলে যাচ্ছে। আজকেও এটা আলোচনা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে আর্লি রেজিস্ট্রেশন হবে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যে রেজিস্ট্রেশনটা হবে সেটাই চার থেকে পাঁচ বছর পরে সব জায়গায় এটাই ব্যবহার হতে থাকবে। সেজন্য এটাকে পাসপোর্টের সঙ্গে লিংক করে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটা দিয়ে দেওয়া হবে। অবশ্য আমাদের ক্ষেত্রে এটা পারা যাবে না। একেবারে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে ফিঙ্গার প্রিন্ট, আইডেন্টিফিকেশন, সব দেওয়া হবে এবং মডিফিকেশন হবে। আমরা যারা বয়স্ক, আমাদের ক্ষেত্রে একবার দিয়ে দিলেই হবে। এটা সুরক্ষা সেবা বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, যে আইনটা ওনারা আজকে এনেছেন সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বলেছে আইনটা একটু রিভিউ করা দরকার। কারণ আগে ৩২টি ছিল ধারা সেখানে থেকে ১৫টি ধারা কমানো হয়েছে। অনেক কিছু সেখান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো কেবিনেট অ্যাগ্রি করেনি। যেমন ছয়টা বা সাতটা ছিল অপরাধ এবং আলাদা দণ্ড ছিল। এই আইনে সবগুলোকে এক সঙ্গে করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এখন লঘু অপরাধের জন্য তো সাত বছরের কারাদণ্ড হবে না। এজন্য এগুলোকে আলাদা করতে হবে। আবার অনেক কাজে এনআইডি ব্যবহার করা যাবে এ ধারাগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেজন্য মন্ত্রিসভা এটাকে রিভিউ করতে বলেছে। আগের যে ৩২টি ধারা সে অনুযায়ী সেটার সঙ্গে দুই-একটি যোগ বা বিয়োগ করে আনতে হবে।

অবশ্য এ আইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এনআইডি কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্বাচন কমিশনই কাজ করবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন যতক্ষণ পর্যন্ত অ্যাবসোলুট না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পারবে না। এখন আইন যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে। এটা নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কিন্তু শর্ত হলো লেজিসলেটিভ বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কনসাল্ট করবে, কেবিনেটকেও কনসাল্ট করবে। আইন যতক্ষণ পর্যন্ত গেজেট হবে না ততদিন পর্যন্ত এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে না। যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে।

তিনি বলেন, ভোটার আইডি হলো ১৮ বছরের ওপরে। এখন এই ডাটাগুলো নিয়ে একটি ডাটাবেস হবে, ইন্টার অপারেটরি একটি সিস্টেমে যাবে। অটোমেটিক ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে যাবে। পাসপোর্ট বা অন্য সেবার ক্ষেত্রে সবার ওয়ার্কিং অ্যান্ট্রি থাকবে এ ডাটায়।

এনআইডি কারা পাবেন জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এনআইডি হয়ে যাবে। এ আইনটা হওয়ার পর।

আইনটা হতে কতদিন লাগবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা মনে হয় আর এক মাস লাগবে এটা মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।

আগামী নির্বাচনের আগে আইনটি চূড়ান্ত হবে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করবে। কার্যক্রম কীভাবে সম্পন্ন করা হবে, সেজন্য আইনের অধীনে পরবর্তী সময়ে বিধি করা হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এনআইডি হয়ে যাবে। আমার ধারণা এটা আবার কেবিনেটে আসতে সর্বোচ্চ এক মাস সময় লাগবে। এটা যত তাড়াতাড়ি করা হবে। এটা হবে ন্যাশনাল আইডি। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন তারা যদি মনে করে এখান থেকে তথ্য নিয়ে তাদের কাজ হবে তারা নিতে পারবে। আর যদি মনে করে আলাদা ডাটা তৈরিও করতে পারবে। এটা তাদের বিষয়। এটা এখানে আলোচনায় আসেনি।

আইনটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা পরবর্তীতে রুল বা বিধি দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইউনিক আইডি হলো সবারই একটা করে নম্বর থাকবে। এটা জন্মের পর করা হবে। এটাই সারাজীবন থাকবে। কিন্তু আপানার আমার ক্ষেত্রে তো এটা করা সম্ভব না। এটা আইন বাস্তবায়নের পর এটা রেশনাল সময় দিয়ে যে নম্বরটা পড়বে সেটাই পরবর্তীতে ইউনিক আইডি হবে।

জন্ম নিবন্ধনও ব্যবস্থাও কী সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে চলে যাবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সবাই মিলে আলোচনা করে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করতে বলা হয়েছে। জন্মের সময় যে রেজিস্ট্রেশন হবে, সেই নম্বরটা যাতে সব জায়গায় থাকে। আইন ও বিধি হলে এ বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। আপাতত যেভাবে আছে সেভাবে চলবে। কিন্তু নিজেরা বসে ইন্টার-অপারেটিবিলি থাকে, ডুপ্লিকেশন না হয়, কেউ যাতে বাদ না পড়ে সেটা দেখে কাজ করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন এনআইডি সেবা সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সেটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, না, এটা পয়েন্ট আউট হয়নি।