কারো রুদ্ধশ্বাস! কারো অবিশ্বাস! কারো সর্বনাশ!

আপডেটঃ ৯:০৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

বিনোদন প্রতিবেদক :২০২২ সাল বাংলা সিনেমা, সিরিজসহ বিভিন্ন কন্টেন্টের জন্য যেন আশীর্বাদের বছর। সিনেমা হল থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বাংলা কনটেন্টের জয় জয়কার। সেই ধারাবাহিকতায় চরকিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় রায়হান রাফী পরিচালিত ‘নিঃশ্বাস’ মুক্তি পাচ্ছে।

এরই মধ্যে রিলিজ হওয়া ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ট্রেইলার যেন রহস্যের অন্ধকারে ফেলে দেয়। দারুন শাসরুদ্ধকর এই ট্রেইলারে তাসনিয়া ফারিণকে দেখা যায় হাসপাতালে তার বাচ্চাকে সে খুঁজছে! বাচ্চাকে হারিয়ে ফেলার আতংক, কি হবে তার বাচ্চার! তার কোন পাপের শাস্তি তার বাচ্চা পাচ্ছে। কিন্তু আদৌতে তার বাচ্চা কেন, কীভাবে আর কোথায় আছে যেটা অজানায় রয়ে গেল।

হাসপাতালে কয়েকটি পরিবার ও কয়েকজন মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। এই লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ে যখন মুখোশধারী কিছু উগ্রবাদী ছক আঁটে এক বিধ্বংসী হামলার। ধ্বংসস্তুপের মাঝে একজন ঘুরে দাঁড়ায়, প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে। কিন্তু সে কি যুদ্ধজয়ের নায়ক হবে? নাকি হারিয়ে যাবে এই ধ্বংসলীলায়?

তাসনিয়া ফারিণ, ইমতিয়াজ বর্ষণ, সাফা কবির, সৈয়দ জামান শাওন, রাশেদ মামুন অপু, সোলাইমান খোকা, দিলারা জামান, নীল হুরেজাহান, অশোক ব্যাপারী, হামিদুর রহমান, কামরুজ্জামান তাপু, ফরহাদ লিমন, ফারজানা ছবি, আনোয়ার হোসেন, পূর্ণিমা বৃষ্টি, মাসুম রেজওয়ান, রুশো শেখ, জন আর্মস্ট্রং-সহ এক ঝাঁক অভিনেতাকে দেখা যাবে এই সিনেমায়।

‘নিঃশ্বাস’-এ এমদম ভিন্ন এক ফারিণকে দেখবে দর্শক। সেইভাবে নিজেকে প্রস্তুতও করেছেন তিনি।

ফারিণ বলেন, ‘শুধু চরকির জন্য না আমার ক্যারিয়ারেও এরকম কাজ আমার করা হয়নি। কাজটা করার জন্য আমাকে নতুন অনেক কিছু করতে হয়েছে। ফাইট ট্রেনিং/লড়াই প্রশিক্ষণ, অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ শারীরিকভাবে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। সেই সাথে আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই চরিত্রের দর্শনটা বিশ্বাস করা। আর প্রথমবার আমি এমন একটা চরিত্র করেছি যেখানে বাস্তব আমার সাথে বিন্দমাত্র মিল নেই।

‘নিঃশ্বাস-এর গল্প খুব সাহসী। বেশির ভাগ শট ওয়ান টেক শট। এ জন্য একটা সিন করার আগে অনেকবার করে রিহাসসেল করা হয়েছে। অনেক ভালো প্রি-প্রডাকশনের কারণে কাজ করাটা সহজ হয়েছে। লাইট, সেট ডিজাইন, ক্যামেরার কাজ, সব মিলিয়ে খুব দুর্দান্ত টিম ওয়ার্ক।‘

ফারিণ আরও বলেন, ‘আমি শুধু চাই মানুষ কোনো বিচার ছাড়াই কনটেন্টটা উপভোগ করুক। এই গল্প বা চরিত্রগুলো খুবই ধূসর। সহানুভূতি নিয়ে দেখলে দর্শক গল্পটি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।‘

চরকি ও নিঃশ্বাস টিমের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, ‘নি:শ্বাস চরকির জন্য আমার প্রথম কাজ। রাফির কাজের স্পিরিট এবং স্পিড দুটোই আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আমি এনজয় করেছি। সিনেমার গল্পটা খুব ইন্টারেস্টিং। চেনা গল্পের খুব স্টাইলাইজ প্রেজেন্টেশন এই সিনেমটি।‘

তিনি আর বলেন, ‘নিঃশ্বাস-এ আমার প্রত্যেক সহ-অভিনেতা অত্যন্ত গুণি এবং শক্তিশালী। ফারিণ তো দুর্দান্ত কাজ করেছেন। রাশেদ মামুন অপু ভাই, হামিদ ভাই, নীল,মাসুম যাদের সাথে আমি স্ক্রিনে ছিলাম তারা প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দেবার চেষ্টা করেছেন। নিঃশ্বাস কে আরো সমৃদ্ধ করেছেন শাওন, সাফা, অশোক দা, দিলারা জামান। বিশেষ ধন্যবাদ ডিওপি রাজিব ভাই এবং একশন ডিরেক্টর এডওয়ার্ড ভাইকে। আর্ট এবং কস্টিউম ডিপার্টমেন্টকে অনেক ধন্যবাদ।‘

সৈয়দ জামান শাওনেরও চরকির সাথে এটা প্রথম কাজ। তিনি বলেন, ‘ভালো প্ল্যাটফর্মে কাজ করা সব সময় আনন্দের। সেই সাথে রাফি ভাই আর টিমের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। এরকম গল্পে আমার তো কখনও কাজ করা হয়নি। সেই সাথে আমার মনে হয় আমাদের দেশে এরকম গল্প খুব একটা দেখা যায় না। খুব ইউনিক একটা গল্পে সিনেমাটা নির্মাণ করা হয়েছে। আশা করি, দর্শক কাজটা দেখে খুব আনন্দ পাবে।‘
সিনেমাটি নিয়ে পরিচালক রায়হান রাফী বলেন, ‘চরকি আমার জন্য একটা সিনেমা হল। যারা হলে যেতে পারেন না তারা দেশ-বিদেশ থেকে চরকি দেখেন। নিঃশ্বাস এখন পর্যন্ত আমার করা সবচেয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। আমার সব ছবি থেকে এই ছবির মেকিং, স্টাইল, জনরা সব কিছুই আলাদা।’

রাফীর সিনেমার আয়োজন সব সময় একটু ভিন্ন থাকে। তার সিনেমায় একটা অন্যরকম ভাষা থাকে। এমন কাজ করতে কতটুক শ্রম প্রয়োজন জানতে চায়লে রাফী বলেন, ‘আমি আসলে দর্শককে ঠকাতে চাই না। দর্শক তো নিজের সময়, টাকা সব দিয়ে সিনেমাটা দেখে। তাদেরকে ঠকালে তো আমাদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে। জানি না নিশ্বাস-এর টিজার দেখে দর্শক কতটুক বুঝতে পেরেছে, এই সিনেমার অনেক বড় একটা সেট বানানো হয়েছে। সেই সাথে সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়ে ৫০-৬০জন আর্টিস্ট কাজ করেছেন। আমরা অনেক খেটে কাজ করি।’